পোস্টগুলি

কবিতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হাসি খুশি

হাসি খুশি মুনমুন মুখার্জ্জী  মনটা আমার দুঃখ পোষে,  সেই যে আমার সেরা সাথী, মাঝে মাঝে সুখের হাওয়া  আমার ঘরে জ্বালায় বাতি।  অল্প একটু সুখের হাওয়া  দুঃখকে করে সে সহনীয়,  দুফোঁটা মুক্ত হয়তো ঝরে,  মনটা কিন্তু হয় কমনীয়।  সুখের হাওয়ার দোলা লেগে  মন হাসে ঠিক খিলখিলিয়ে দুঃখের সাগর এক নিমেষে  কোথাও যেন যায় মিলিয়ে। হাসি যেন ছোঁয়াচে রোগ,  যে দেখে সেও ওঠে হেসে,  হাসতে গিয়ে কেউ আবার  অকারণেই কেঁদে ভাসে। আমার হাসি দেখে যখন  সবাই হাসে অকারণে,  খু‌শি তখন বাঁধন ছাড়া  আমার ছোট্ট অন্তর মনে।  দুঃখ থাক মনের কোণে,  খুব যতনে, সংগোপনে,  হাসার সুযোগ খুঁজি আমি, খুশি ছড়াতে সবার প্রাণে।

মিলন

মিলন মুনমুন মুখার্জ্জী সবুজ সবুজ পাতার ফাঁকে, কদম সোনা দুলতে থাকে; সোনালী রুপোলি রঙে খোকা খুকুর মনকে ডাকে।  কদম গাছের ছায়ার তলে, তারা দুজন খেলতে থাকে;  বৃষ্টি এলে ঝমঝমিয়ে, দুই-জনাতে ভিজতে থাকে। দেখতে দেখতে বয়স হল, ফুলের গন্ধে মন মাতলো; শ্রাবণ ধারায় রাগ অনুরাগে কদম তলার সোহাগী আলো।  হটাৎ এল বিদায় বেলা, কাজের খোঁজে প্রবাসী হওয়া; অবসরে স্মৃতির মাঝে কদম তলাতেই আসা যাওয়া। অবশেষে বাজল বাঁশি, কদম ফুলও উঠল হাসি; সৌরভে তার ডালি সাজিয়ে দুজনে বলে ভালবাসি।

জীবনের খেলা

জীবনের খেলা মুনমুন মুখার্জ্জী যোগ্যতা অনেকটা ঠিক বুদবুদির মতো,  যোগ্যতা দাবানো যায় না, চেষ্টা করো যত;  সে তো উপর দিকে উঠতেই থাকে।  দরকার শুধু একটা সুযোগের অপেক্ষা--  সুযোগ পেলে সে ছড়িয়ে দেবেই আলো-- নিজেকে মেলে ধরবে তখন চারিদিকে। যারা পথে কাঁকর বিছিয়ে আনন্দ পায়-- যারা পাশে কখনই দাঁড়ায় না অসময়-- ধৃতরাষ্ট্র হয়েই তাঁরা চোখ বুঁজে থাকে-- শিখরে পৌঁছালে কিন্তু আসে ঠিক পাশে -- ভাবখানা এমন যেন কত শুভাকাঙ্ক্ষী সে, তাইতো মন ওসব থেকে দূরেই থাকে। কালের নিয়মে ম্লান হয় দুঃখের স্মৃতি কথা, ভুলে যায় সবাই একদিন কি দিয়েছিল ব্যথা,  রং-মিলান্তি খেলা চলে জীবন যুদ্ধের বাঁকে। অসময় কেটে যায় অনেকের পরশে হেসে,  একাকী মনের কোণে তাদেরই মেলা বসে, সুখ স্মৃতির ডালি নিয়ে তারাই পাশে থাকে।

আর ক'টা দিন

আর ক'টা দিন মুনমুন মুখার্জ্জী লিখতে চাই অনেক কিছু ফোনটা ভীষণ জ্বালায়, ফোনের সাথে নেটটাও যে  পাল্লা দিতে চায়। টাইপ না হলেই ভাবি পড়ব আমি এবার, তখন আবার পালিয়ে যায় খুঁজে পাই না আর। আর কিছুদিন সবুর করো ফিরব আবার ছন্দে, পড়ব লিখব আগের মতো সকাল হোক বা সন্ধ্যে। পরিস্থিতি ভালো হলেই  কিনব নতুন ফোন, আর কোনো নালিশ কারো থাকবে না তখন।

খুড়োর কার্যকলাপ

খুড়োর কার্যকলাপ মুনমুন মুখার্জ্জী রামু খুড়ো ছিল চাষা, পেলেন হঠাৎ লটারি কোটিপতি হয়ে খুড়ো বানালেন বাড়ি গাড়ি। মনে ছিল যত শখ ঘাপটি মেরে বসে-- সবই তিনি মিটালেন এক বছরেই চষে। বছর ঘুরে হলেন তিনি মস্ত কোটিপতি; চাষা তকমা উধাও হল, ঠাঁটবাটেই মতি। আত্মীয়রা তাঁর চোখে হলেন শুধু চাকর-- সত্য বললে ছুঁড়ে ফেলেন যেন সে কাঁকর। দুঃখে সবাই বিদায় নিলে তিনি হলেন একা টাকা ছড়িয়ে মন পান না, মনটা হল ফাঁকা। টাকায় করে পকেট গরম, মনে আসে শূন্যতা, জুলুম করে চাহিদা পূরণ, পায়না মন পূর্ণতা। প্রিয়জনের জন্য কেঁদে উঠলো যখন তাঁর মন, ছুটে গেলেন সবার মাঝে, ধন্য করলেন জীবন। বিলিয়ে দিলেন সবটুকু তাঁর, অল্পতেই বাঁচা যায়! খাওয়া থাকা দুটো পোশাক বলো আর কিবা চায়?

মনোবাঞ্ছা

মনোবাঞ্ছা  মুনমুন মুখার্জ্জী  একটু একটু করে সরে যাব দূরে,  একটু একটু করেই অনেক দূরে,  একটু একটু করে ভুলে যাবে সবাই,  স্মৃতি হয়েও আমি থাকবোনা তাই।  মাঝে মাঝে আমার ধৈর্য হারায় মাঝে মাঝে নিজেই হারিয়ে যাই, লেখক হতে আসিনি দুনিয়ায়, কবি ডাকলে তাই দুঃখ পাই।  এসেছিলাম মেয়ের গান শোনাতে, এসেছিলাম মেয়ের দুনিয়া সাজাতে,  ভেবেছিলাম সবাই আশীষ দেবে, সময়ে অসময়ে ওর পাশে থাকবে। সব না পেলেও পেয়েছি অনেক,  আত্মীয়রা দূর গিয়েছে শতেক, বন্ধু অনেক গেছেন পগার পার,  ফেসবুকের বন্ধু ডাকেন বার বার।   সঞ্জয়দা, সৌমেনদা সুযোগ দিয়েছেন, সুতপা, তন্ময়দাও গাইতে ডেকেছেন, নারায়নী, চন্দনদা উৎসাহ দিয়েছেন,  ছন্দাদি, বরুণদা ভালবাসায় ভরিয়েছেন।  আরও আরও অনেকে আছেন যাঁরা,  প্রতি নিয়ত খোঁজ খবর নেন তাঁরা,  ফেসবুক দিয়েছে মেয়ের ঝুলি ভরিয়ে, মন খারাপের মেঘ দিয়েছে উড়িয়ে।

টুপি পড়ানো

ছবি
টুপি মুনমুন মুখার্জ্জী টুপি পড়তে ভালো লাগে না, ভালো লাগে পড়াতে; যদিও কখনো পড়তে হয় সে একান্তই অনিচ্ছাতে। টুপি পড়ায় নেতা মন্ত্রী পাড়ার মস্তান দাদা, প্রতিবাদ যদি করেছ তুমি গায়ে ছিটাবে কাদা। শিশুদের টুপি পড়ানো যেন জলের মতো সোজা, ভাবিনা তো কেউ কখনো ওটাই ভবিষ্যতের বোঝা। উঠতে বসতে টুপি পড়াই যাকেই পায় কাছে, কেউ কখনো টুপি পড়ায়নি হয়তো পাবেনা খুঁজে।

পুনর্মিলনের সাধ

পুনর্মিলনের সাধ মুনমুন মুখার্জ্জী ওলো সখি আয়     ত্বরা করি আয়   কানু বুঝি ওই আইলো হেথায়, ব্যকুল হিয়া          ঘুম জাগানিয়া    বিরহে কাঁদিয়া উঠিছে সদাই। শূণ্য যমুনা চর        আসিলে ননীচোর     দাপিবে সে তারি কালো জলে, নীল রঙ কান্হার     যমুনা নিও এবার     ভুলিও না আর কোনো ছলে। শুকায়েছে আঁখি      দুঃখী মনপাখি     মিলনে পিয়াসী ছিনু বহুদিনে, আসিতেছে নাও      সুদূরে কোথাও    আজি বানভাসি হবো কানু সনে। সাজায়ে দেলো আয়  দুলিবো দোলায়    ফুল সাজে আমায় সাজায়ে দে, শোন্ শোন্ শোন্       মন দিয়ে শোন্    শ্যামের বাঁশি ওই বাজিল রে।

কি দিন এল

কি দিন এল মুনমুন মুখার্জ্জী এ কি দিন এল ভাই ছুটিতেও ছুটি নাই, ভুলেছি স্কুলের গলি হয়েছি নিয়মের বলি। ঢাকা মুখ বদলাবে পরে কি চেনা যাবে? খেলাধুলা সব মানা দুশ্চিন্তা অজানা। নিয়ে আয় ওয়াকিটকি চুপিচুপি দু'জনে বকি; নাহলে ফোন আন দু'জনে গাই গান। হয়েছি আজ বন্দি খাটেনা তো ফন্দি; ভেবে ভেবে নাজেহাল কেমনে কাটি জাল। পেলে একটা ডানা কে আর করত মানা-- উড়ে যেতাম ফাঁক গলে জড়াতাম তোকে গলে।

একটা ভুল

একটা ভুল  মুনমুন মুখার্জ্জী  একটা ভুল অনেক সত্যকে মিথ্যা করতে পারে,  একটা ভুল স্বপ্নের ঘর নিমেষে ভাঙতে পারে, একটা ভুল কাছের মানুষকে দূর করতে পারে,  একটা ভুল সারাজীবনের কষ্ট হতে পারে,  একটা ভুল সম্পর্কের মূলে আঘাত হানতে পারে,  একটা ভুল বন্ধুর সাথে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে,  একটা ভুল মানুষকে সঠিক চেতনা দিতে পারে,  একটা ভুল চেনা মানুষের মুখোশ খুলতে পারে, একটা ভুল কাউকে নতুন পথ দেখাতে পারে,  একটা ভুল জীবন চিরতরে শেষ করতে পারে।

মনের মত

মনের মত মুনমুন মুখার্জ্জী  দুঃখ দেয় হাজার লোকে! সব কি মনে জমিয়ে রাখে?  মন কোনো ডাস্টবিন নয়,  দুঃখ শোকে ভরা কি রয়?  দুঃখ কষ্ট সরিয়ে রেখে, সুখের পরশ গায়ে মেখে-- মন রাখি তাই ফুরফুরে; মিষ্টি মধুর স্মৃতির সুরে। নিন্দুকে শুধু নিন্দাই করে, তর্ক করে পায়ে মাড়িয়ে! ঈর্ষাতেও অপমান করে,  দূর্বলতাই প্রকাশ করে।   চাহিদা আমার খুবই অল্প, লোভ লালসার নেই গল্প; লোকের কথায় কি আসে?  তাদের নিয়ে সবাই হাসে।  আমি থাকব আমার মত-- মনের গল্প করব যত; তাদের পাশে থাকব তত, যারা আমার মনের মত।

দায়

দায় মুনমুন মুখার্জ্জী ধর্মের হাতে দিলে রাষ্ট্রের ভার-- তড়তড়িয়ে হবেই ধর্মের প্রচার। কূটনীতি, অর্থনীতি তলানিতে যায়-- প্রতিবেশী বন্ধুদেশ শত্রু হয়ে যায়। ঢাক ঢোল বাজিয়ে চলছে প্রচার! কৃষক শ্রমিক মরলে যায় আসে কার? সীমান্তে সৈন্যরা মরে বোকার মত-- রাজাার ভাষণ যেন সার্কাসের মত। উৎসব পালনের হয় কত আয়োজন; যাদের টাকায় হয় তাদের মরে গেছে মন।

বায়না

বায়না মুনমুন মুখার্জ্জী  বৃষ্টি রাণী, বৃষ্টি রাণী, তোর চোখে কেন পানি? তোর বুক ভরে জল বল দিল কোন মালী? খোকা খুকু সব কাঁদে, পড়ে তোর এই ফাঁদে--  খেলা ধুলা সব বন্ধ! সারা দিন কাটে মন্দ। তারা ভেজে না জলে,  না নৌকা গড়ে খেলে, ঘর থেকে মানা আছে-- ওদের কি এসব সাজে? মত পারিস তুই ঝর, দিনে নয় রাত ভর-- দিনে তুই হাস শুধু,  রামধনুর নিয়ে জাদু।

জামাই ষষ্ঠী

জামাই ষষ্ঠী মুনমুন মুখার্জ্জী বছর ঘুরেতেই জামাই এসেছে  করতে জামাই ষাট, ধুতি পাঞ্জাবী পরে চাদর জড়িয়ে  সম্পূর্ণ পরিপাট। শাশুড়ি থেকেজ্যেঠশাশুড়ি  করছেন সবাই তোয়াজ, বিশ রকম পদ রান্না হয়েছে  নয় কেউ ফাঁকিবাজ। ছোট্ট ছোট্ট শ্যালক শালিকা  রঙ্গ তামাসা করে বড় শালিকা হাসি হাসি মুখে  তালপাতাটা নাড়ে। দেখে শুনে জামাই বাবাজী  মনে মনে হেসেই খুন-- যত বেশি "লাগবে না" বলে  তাগিদ আসে ততগুন। শ্বশুর মশাইয়ের মুখে ভাসে  চওড়া একটা হাসি, কত আয়োজন করতে যে হয়  কিনতে মেয়ের খুশি। শেষে গম্ভীর হয়ে বলেন তিনি,  "করতেই হবে শেষ-- এর চেয়ে ঢের বেশি খেতাম,  চেহারায় দেখো রেশ।"

ভাবো

ভাবো মুনমুন মুখার্জ্জী "ও ঠাকুমা বেচছো তুমি  তোমার ঘরে কেউ নাই?" "আছে আছে, সবাই আছে,  সবাই মিলে বেচেই খাই।" "সেতো বুঝলাম কিন্তু তুমি  আর কিছুই পেলে না? নিমের দাঁতন, শালপাতা  এযুগে কেউ কেনে না।" "জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে,  টাকা পয়সা সবার কই? দাঁতন করে শালপাতায় খাবে  গরম ভাতে টক দই। পেস্ট বলো আর ধোয়ার সাবান  তারচেয়ে দামে কম, তোমাদের শরীর থাকবে ভালো,  আমিও পাব অনেক দম।"

মনে মনে ভিজি

মনে মনে ভিজি মুনমুন মুখার্জ্জী আজ দিন রাত       রেখে হাতে হাত               চলো দু'জনে ভিজি; শ্রাবণ ধারায়            আমরা দুজনায়               নেব আনন্দ খুঁজি। বয়স বেড়েছে,           তাতে কি হয়েছে?               মনটা আজও তাজা, ভয় নেই কারো,          ভিজে নিতে পারো,               কে দেবে তোমায় সাজা? আছে রোগ ভয়,          তাতে কি হয়,                ভিজব না তাই বলে? তুমি যদি বলো,           তবে তাই চলো,                 মনে মনে ভিজি তাহলে। তবে তাই হোক,            থাক রোগ ভোগ,                 বৃষ্টির নাচন দেখি, গরম ...

জামাই আদর

জামাই আদর মুনমুন মুখার্জ্জী জামাই আমার ভীষণ ভালো, নেই কোনো বাহানা মাছ মাংস হলেই হল, বেশি কিছু তার চায় না। নিদেনপক্ষে ডিম হলেও চলে, কিছু ভাজাভুজি, জলখাবারে দিতেই পারো লুচি কিম্বা সুজি। শাক সবজির ঝামেলা নেই, তাইতো করি না-- আমার মতো ফাঁকিবাজ আর কেউ হবে না। চিলি-চিকেন বা চাওমিনটাও ভীষণ ভালোবাসে আলু সেদ্ধ ভাত দিলেও সে মুচকি মুচকি হাসে। খেতে কিন্তু ভালোই বাসে, মনের মতো যদি মেলে পরিমাণে যদিও কম খায়, আজকালকার ছেলে। জামাই ষষ্ঠী নেই গো তবে আমাদের এই ঘরে-- সময় করে এলেই খাওয়াব জামাই আদর করে। ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক এইটুকুই এখন চাই খাওয়া দাওয়া আছে সারাজীবন, পালাচ্ছে কোথায়।

অঝরে ঝরে

অঝরে ঝরে মুনমুন মুখার্জ্জী প্রথম বরিষণ যদি কখনো অঝরে পড়ে ঝরে  অকারণে মনটা তখন সবারই কেঁদে মরে; সবাই যে হয় তখন একই পথের পথিক-- কেউই জানে না কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক! বিষাদের কালো ছায়া সবাইকেই জবাই করে। মনে তখন প্রথম বৃষ্টির আনন্দ আসে না, বিগত প্রেমের দুঃখেও মন আর কাঁদে না, আসে না মনে আর নতুন ছন্দ তাল, নিস্তব্ধ হতাশায় কাটে সকাল বিকাল। আনন্দে গা ভাসাতে আর মনটা চায় না। তবুও বিশ্বাস থাকে সূর্য উঠবেই আবার, কেটে যাবে সেদিনই সবার মনের আঁধার; আগের মতই আবার হাসবে বসুন্ধরা--  প্রকৃতি লাগবে হয়তো আবার মনোহরা! আহ্লাদিত হবে মন আগের মতন সবার।

এলোমেলো ভাবনা

এলোমেলো ভাবনা মুনমুন মুখার্জ্জী  মাথার ভিতর পোকাগুলো  করছে সদাই কিলবিল, ফন্দি করেছে হাসির ঘরে  এবার দেবে ওরা খিল।  ওরা কিন্তু জানে না এটা আমি হাসতে ভালবাসি,  খুব দুঃখেও হাসির কথায়  আমি বেজায় হাসি।  শুনলাম সেদিন একটা কথা  বলছি এবার শোনো,  গোঁফে নাকি ছেলেরা বুড়ো  কাটলে কেমন যেন -- দিদিমণিটা বড্ড বাজে,  চুল ধরে শুধু টানে,  ছাত্র হাসে চুলটা কেটে  দিদিমণির মুখের পানে?  পড়ার সময় বাচ্চাগুলো  কেবল খাই খাই করে,  গেমস খেলতে দিলে কিন্তু  আপন মনে খেলা করে।  পড়তে বসে সোজাটা পড়ে  শিশুরা বেশ জোরে,  কঠিন বিষয় চোখের নিমিষে  বাদ দেয় চুপটি করে। পড়তে পড়তে বললে কথা শিক্ষক দেন মার, বিরক্ত হয়ে একদিন শেষে যেচেই খায় মার। কেউ বলে স্যার পিঠে খাব কেউবা বলে ঝাল,  শিক্ষক মশাই হেসে ফেলে  মিষ্টি করে দেন গাল।

নীল স্বপ্ন

নীল স্বপ্ন মুনমুন মুখার্জ্জী আহা মরি মরি, আমি কি করি, এসেছি এ কোন গাঁয়ে? পাহাড় ঘেরা হ্রদের মাঝে ছোট্ট এ খেয়া বায়ে। আকাশ, পাহাড়, বৃক্ষলতা মধুর স্নিগ্ধতা ছড়ায়-- একপাশে তার ছোট্ট কুটির একাকী অপেক্ষায়। ভাসতে ভাসতে এসেছি দোঁহে, কেউ কোথাও নাই মুক্তির স্বাদ হাতছানি দেয়, যেদিকে দু'চোখ যায়। একি অপরূপ রূপের মায়া, বুক ভরে শ্বাস নেব, দুজনে মিলে খেয়ার দোলায় প্রেমের গান গাব। হোক না গলা যেমন তেমন, সুর হোক এলোমেলো, সুখ সাগরে ভাসব দুজনে, করবে না কেউ কেলো। জোছনা যখন উপছে পড়বে ছোট্ট কুটির মাঝে-- নীল স্বপ্নে বিভোর হবো, কপোত কপোতির সাজে।