পোস্টগুলি

গল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমার প্রিয় বন্ধুর কথা

আমার প্রিয় বন্ধুর কথা মুনমুন মুখার্জ্জী প্রিয় বন্ধু, সে আছে একজন। স্কুলে প্রতিদিন আমাকে গান শোনাত, আমাদের ঘরে টিভি ছিল না, যা সিনেমা দেখত আমাকে তার গল্প শোনাত আরও কত কি বলে শেষ হবে না। আমি কিন্তু তার থেকে দূরে দূরে থাকতাম। মনে হত তার এই ভালোবাসা যদি পাগলামিতে দাঁড়ায় তবে মুশকিল হবে। তোমরা হাসছ? ভাবছ আমি এ কি কথা বলছি। বন্ধু বন্ধুকে জীবন দিয়ে ভালোবাসে, তাতে দোষ কোথায়? আছে আছে। আগে শোনো তো পুরোটা। মনে করো দিদিমণিরা পড়া বোঝাচ্ছেন, ও তখন আপন মনে ছাইপাশ ছবি আঁকত, কতবার বলেছি, "কি বলছেন শোন"। তা কে কার কথা শোনে। বলত, "তুই শুনে আমাকে বোঝাবি। উনাদের বকবকানি আমার মাথায় ঢোকে না।" বোঝো কথা। আমি ওকে জব্দ করার জন্য অনেক দিন বুঝিয়ে দিইনি, কিচ্ছু বলত না। কেমন তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে থাকত। অগত্যা বুঝিয়ে দিতেই হত। যতই হোক প্রিয় বন্ধু, না না বান্ধবী।  আমার জন্য দুনিয়ার সবার সাথে ঝগড়া করত, আমাকে কেউ কিছু বললেই হল, তার আর রক্ষে নেই। একদিন আমার হাতে একজনের খাতা ছিঁড়ে যায়, সে নালিশ করে দিদিমণির কাছে। ও আমার হয়ে মার খেয়ে নেয়, বলে আমার হাত থেকে ও টানাটানি করতে গিয়ে ছিঁড়ে ...

ভক্তের লেখা খোলা চিঠি ভগবানকে

ভক্তের খোলা চিঠি ভগবানকে মুনমুন মুখার্জ্জী একবার এক মহিলা মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের হাতে একটা ভাঁজ করা কাগজ দিল। মহিলার হাবভাব দেখে, পোশাক দেখে পাগলি বলেই মনে হয়। ।  তারপর মহিলা হাত জোর করে ভগবানের সামনে বসে পড়ল। পুরোহিত মশাই এমন কিছু ঘটনা আশা করেন নি। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাগজের ভাঁজ খুলে দেখলেন ওটা আসলে একটা চিঠি। হে পরমেশ্বর            শুনেছি তোমার অসীম শক্তি। তাই ছোট্ট থেকে বড়দের সাথে বারে বারে গেছি তোমার অনেক মন্দিরে, হাত জোড় করে মাথা ঠেকিয়েছি তোমার চৌকাঠে। তোমার বিভিন্ন রূপে মুগ্ধ হয়েছি আমি। মনে হয়েছে তোমার দৃষ্টি যেন আমার অন্তরের সকল টানা পোড়েন জেনে নেয়। সবাই থালা ভর্তি করে কত কিছু নিয়ে যায় তোমাকে দিতে, ঘরেও সাজায় রেকাবি তোমায় অর্ঘ্য দেবে বলে। আমি অবশ্যই কোনো দিন তা করি না। তুমি তো ভালো করেই জানো আমি কাউকে তেল মালিশ করি না। আর তোমারই দেওয়া এ জগতের কোন জিনিস আমি তোমাকে দান করবো-- আমি ভেবে পাই না। তাই শুধু ভক্তি ভরে প্রণাম করি, আরতি দেখি, মন্ত্র পাঠ শুনি। মন্ত্র বুঝি না কিছুই, তবু মনটা কেমন যেন টানে। কত জনকে দেখি ডালা ভরে নানারকম জিনিস সাজিয়ে ন...

অবেলার ডাক

অবেলার ডাক মুনমুন মুখার্জ্জী একই স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গে গেল কান্তি বাবুর। অতিরিক্ত শ্রমের ফলে শরীর ভেঙে গেলেও মন এখনো তাজা। এক মুঠো লজেন্স নিয়ে বেড়িয়ে পড়লেন, এ রহস্যের মীমাংসা করতেই হবে।   কোথায় যাবেন তা জানেন না। স্বপ্নে রাত দশটার ট্রেন, সিনহা প্যালেস এমনি কিছু দেখে থাকেন। ছেলে অয়ন ঘরে থাকলে চোরের মত যেতে হত, সে এখন কলেজে হোস্টেলে তাই আপাতত তাঁকে বারণ করার কেউ নেই। তিনি স্বাধীন। ঠিক দশটায় বাজার পর যে ট্রেনে ছাড়বে বলে মাইকে ঘোষণা করে তাতেই তিনি উঠে পড়লেন, ঠিক তখনি লাল ব্লাউজ আর বাসন্তি রঙের শাড়ি পরিহিত কারো স্পর্শে শিহরিত হলেন। কান্তি বাবু এমন কাউকে অনুসরণ করার স্বপ্নই দেখেছিলেন। আর ভাবনা নেই, উনি যেখানে যাবেন সেটাই গন্তব্যস্থল। ভদ্রমহিলার চোখ মুখ দেখতে চেষ্টা করলেও বিফল হলেন।  হঠাৎ ট্রেন থেমে গেলে ভদ্রমহিলা নামতেই তিনিও নামলেন। বর্ষাকাল, বৃষ্টি দেখে ব্যাগ থেকে বর্ষাতি বের করলেন। ভদ্রমহিলা ততক্ষণে একটি রিকশায় চেপে বললেন "সিনহা প্যালেস।" নামটা শুনেই তিনিও চটপট উঠে বসলেন।  কোথায় চলেছেন বুঝতে পারছেন না, কারণ বেশ অন্ধকার। চারিদিকে কোনো বসতি নেই। একটি সুসজ্জিত...

জাদু

জাদু মুনমুন মুখার্জ্জী অনেক দিন আগের কথা, তানেয়ার পরীক্ষার আগের দিন আসানসোল থেকে কোলকাতা গিয়েছি। পরীক্ষার সময় ও বরাবরই রাত জেগে পড়ত, সকাল বেলা যাওয়ার আগে একটু ঘুমিয়ে নিত। সেবার আমার শরীরটা একটু খারাপ ছিল, তানেয়া যেতে মানা করলেও গিয়েছিলাম। আসলে মায়ের মন তো, মনে হত যদি সকালে ঘুম না ভাঙে! সেদিন যাওয়ার পর স্নান-টা করে অল্প জলখাবার খেয়ে শুয়েছিলাম। দুপুরে যা হয় কিছু খাওয়া যাবে, আগে একটু বিশ্রামের প্রয়োজন। যখন ঘুম ভাঙলো, দেখি জানলার বাইরে আকাশ অন্ধকার, তাড়াতাড়ি উঠতে গেলাম, বৃষ্টি আসবে হয়তো,  জামা কাপড় ভিজে যাবে। তানেয়া জোরে বকে দিল। " কি হল কি? অত তাড়াহুড়ো করার কি আছে? আস্তে আস্তে ওঠো।" বৃষ্টির কথা বলায় খুব হাসল। তারপর দেখলাম রাত আটটা বাজছে।  এবার আমার রাগ হবার পালা, নিজে জেগে আছে অথচ ডাকেনি। আমি কাছে থেকেও যদি দুপুরের খাবার না দিতে পারি নিজের উপর রাগ হবার কথা।  তানেয়া ব্যপারটাকে হালকা করে বলল, " ছাড়ো তো, আমি ম্যাগি করে খেয়ে নিয়েছি, সারা জীবন নিয়ম মেনে চলে নিজে কি পেলে? একটু না হয় আরাম করে ঘুমালে। ওঠো, বিরিয়ানি অর্ডার দিয়েছি, এক্ষুণি চলে আসবে।...

নতুন সূর্য

নতুন সূর্য মুনমুন মুখার্জ্জী মেয়ের উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হয়েছে, অনলাইনে ডিগ্ৰি কোর্সে ভর্তির জন্য খোঁজ চলছে।  এমন সময় খবর এলো ভাগিনবৌ আত্মহত্যা করেছে। বৌমার বাড়ীর থেকে ননদের ঘরের সবার বিরুদ্ধে মামলা করেছে শুনে ওরা গা ঢাকা দেয়।  কি করবে পালক ভেবে পায় না। কাউকে না পেয়ে পুলিশ তাদের টার্গেট করতেই পারে।  হঠাৎ পরিমল ফোন করে জানায় "মেয়েকে নিয়ে কোথাও চলে যাও, যা ভেবেছিলাম তাই। ভেতরের খবর পুলিশ আমাদের তুলে নিয়ে যেতে পারে।" " কিন্তু কোথায় যাবো?" "তোমার বাপের বাড়ী চলে যাও। আমি আসছি। দিদিদের কোনো খোঁজখবর নেই।" পালক মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ী গেলে সব শুনে একমাত্র ভাই তার মাকে ডেকে জোরে জোরেই বলে "যদি ওদের কিছু টাকা লাগে তো বলো আমি দিয়ে দেব। ওদের জন্য আমি ফাঁসতে যাব কেন? এখানেও পুলিশ আসতেই পারে।" পালক ভাইয়ের কথায় অবাক হয়নি, সে জানত স্বার্থপর ভাই তার বিপদে দাঁড়াবে না। মা কিছু বলতে গেলে বলে, "কিছু বলার দরকার নেই, তোমার জামাই আসুক, আমরা চলে যাব।" সে ফোনে পিসতুতো দাদাদের সব জানায়, আশা ছিল তারা বিপদে পাশে দাঁড়াবেই। ফোন পেয়ে দাদারা...

এক টুকরো ভালোবাসা

এক টুকরো ভালোবাসা মুনমুন মুখার্জ্জী ছোট্ট তপার চিৎকারে সুমনা চমকে উঠে। বাগানে খেলতে গিয়েছিল হঠাৎ কি হল? ও ছুটে বাইরে এসে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে ঘাবড়ে যায়, আর তার নাম ধরে ডাকতে থাকে।  "তপা তপা, কোথায় তুই?" "মা আমি বাথরুমে, তুমি এসো এক্ষুণি" "বাথরুমে? কি হল? খোল খোল--" দরজা খুলে তপা মাকে টেনে বাথরুমে ঢুকিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। তার চোখে মুখ আতঙ্ক। কপাল থেকে রক্ত ঝড়ছে। সুমনা ভয় পেয়ে যায়। "কি হয়েছে সোনা?" "খেলতে গিয়ে ভাই ব্যাট এত জোরে চালালো যে আমার কপালে লাগলো। ঘরে বাবার সামনে বললে বাবা ওকে মারবে। ওর কি দোষ, লেগে গেছে, ইচ্ছে করে তো মারেনি।" "তোকে কে বলল বাবা ওকে মারবে? খেলতে গিয়ে লাগতেই পারে--" "বকবে না তো?" "না রে মা, বকবে না।" "ঠিক আছে, তবে ঘরে চলো।"  "একটু বস, আগে রক্ত বন্ধ করতে হবে।" সুমনা মেয়েকে বাথরুমে রেখেই বাইরে বেরিয়ে এসে দেখে পাশের বাড়ির দেওর রাজা এসেছে। "বৌদি তপু কেমন আছে? ওর কি খুব জোর লেগেছে?" সুমনার স্বামী জহর বলে, "ভেতরে কি করছ? মেয়েকে বাইরে নিয়ে...

সোনা ভাইপো

প্রিয় সোনা ভাইপো,        তুমি গত সপ্তাহে আমাদের এখানে এসেছিলে আমার খুব ভালো লেগেছিল। কত আনন্দ করলাম সবাই মিলে। ভাই মানে তোমার বাবার চিঠিতে জানতে পারলাম যাওয়ার পথে তোমাদের কোনো অসুবিধা হয়নি এবং তোমরা ভালো আছো।       সেদিন বাজারে ফুচকা খেতে গিয়ে বইয়ের দোকান থেকে একটা বই কিনে দিয়েছিলাম ওটা সময় হলে বাবা কিম্বা মায়ের কাছে পড়বে। বাংলায় লেখা বলে বইটা যে তোমার পছন্দ হয়নি তা তোমার পাকা পাকা কথায় বুঝতে পেরেছিলাম। যদিও আমার মনে হয় না কথাগুলো তোমার, হয়তো কেউ তোমাকে বলেছে সেটাই তুমি আমাকে বলে দিয়েছ।        অনেকেই বলেন বর্তমান যুগে বাংলা শেখার প্রয়োজন নেই, তাঁরা কেন বলেন তা অবশ্যই আমার মাথায় ঢোকে না। হিন্দি ভাষাকে অনেকেই রাষ্ট্রভাষা বলেন, যদিও সংবিধান রচয়িতারা হিন্দি বাংলা ভাষা সহ মোট ২২টি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছিলেন। আর ইংরেজি শিখতেই হবে দেশে বিদেশে কাজের সুবিধার জন্য, তবে বাংলাটাও জানা উচিৎ। বড় হয়ে তুমি সব জানতে পারবে। তাই সে সব তোমাকে বলছি না।         আচ্ছা বেটা একটু ভেবে দেখো তোমার মা বাবা যদি ...

শেষ বার্তা

শেষ বার্তা মুনমুন মুখার্জ্জী বৌমা, বৌমা, শ্বশুরের ডাক শুনে উঠে পড়ে হৈমন্তী। "কি হয়েছে বাবা?" "সেরকম কিছু না মা, আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিতে এসেছি।"  "কেন? এমন কি হলো?"  "দীর্ঘ পনেরো বছর তুমি আমার যে সেবা করেছো তার জন্য আমি ধন্য।" " আমি তো শুধু কর্তব্য পালন করেছি।" " না মা, কর্তব্য বলে তুমি নিজেকে ছোট করো না। আমি প্রতিটি মুহূর্ত তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। ক্ষণিকের ভুলে আমি যে ভুল করতে যাচ্ছিলাম তাতে তুমি যদি তখন বুদ্ধি করে সরে না যেতে তাহলে হয়তো সাংঘাতিক কিছু হয়ে যেত। তারপর থেকে তুমি কথা বলা বন্ধ করে দিলেও কর্তব্যের কোনো গাফিলতি করোনি। প্রতিটি মুহূর্ত আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি আর লজ্জা পেয়েছি। তুমি যে ঘর ছেড়ে চলে যাও নি, ছেলেকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নাও নি, এর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ দিলেও আমার পাপ কম হবে না।" " হ্যাঁ সেদিন হয়তো সাংঘাতিক কিছু অঘটন ঘটতে পারত, তবে তারপর থেকে আপনার চোখে-মুখে আমি অনুশোচনা দেখেছি, তাই কোনো কঠিন পদক্ষেপ নিইনি। ক্ষণিকের ভুল অনেকের হতেই পারে, তা বলে মানুষটাকে খারাপ বলা ঠিক নয়। তাই ছিলাম এক ছাদের তলাতেই।...

তৃপ্তি

তৃপ্তি  মুনমুন মুখার্জ্জী  ক'দিন ধরে পরিবেশটা‌ কেমন যেন থমথমে, একটা গুমোট গুমোট ভাব। সারদার মনেও যেন তার ছাপ ফেলেছে। বিয়ের পর গ্রামে শ্ব‌শুর বাড়িতেই ছিল সে। তবে অনন্ত ছয় মাস আগে বাসা বাড়ি করে বাবা মায়ের কথায় নিয়ে এসেছে তাকে সঙ্গে করে। বেশ ভালোই কাটছিল দিনগুলো। গ্রামের মেয়ে বলে কোনো দিন অনন্ত আক্ষেপ করে নি। বরং যতটা পারত ওকে সময় দিত। কখনো কখনো ঘুরতে গিয়ে একেবারে রাতের খাবার বাইরে খেয়ে ওরা ঘরে আসত। কিন্তু দিন কয়েক ধরে হটাৎ অনন্তের ব্যবহারে পরিবর্তন আসে। বেশীর ভাগই বাইরে থাকে, যেটুকু সময় ঘরে থাকে নিজের মনে কি ভাবে কে জানে। কখনো কাগজপত্র নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। শুধালে কিছু বলে না, বিরক্ত হয়। খাবারটাও ঠিক মত খায় না। মাঝে মাঝে ফোন করে বলে দেয় দেরি হবে, সারদা যেন খেয়ে নেয়। সারদা বুঝে উঠতে পারে না কি করবে... সমস্ত কাজ সেরে অনন্তের অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে নানা রকম ভাবতে থাকে সারদা। তবু সে ঠিক কিরকম ভুল করেছে খুঁজে পায় না। এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো... সারদা বুঝে নেয় কে আর কেন ফোন করেছে। তাই ধীরে সুস্থে ফোন ধরে। ও জানে, যে মানুষটার কথা প্রতি মুহুর্তে ভাবছে সেই আসতে পারবে না বলতে ফোন করেছে। শু...

বিফল চেষ্টা

বিফল চেষ্টা  মুনমুন মুখার্জ্জী -- আরে মাসী কাঁদছো কেন? -- আর বলিস না কান্না পাচ্ছে যে। -- ওহো, ওহো, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম, তোমার আমেরিকা যাওয়ার টিকিট হয়ে গিয়েছিল অথচ যেতে পারলে না, দাদা বৌদি সব চলে গেল। তাই বুঝি কাঁদছো?  -- নারে ভুল করছিস যেতে পারলাম না বলে কাঁদছি তা নয়, কাঁদছি শুধু ছেলেটাকে মানুষ করতে পারলাম না বলে--  -- কেন মাসী এরকম বলছ? তোমার ছেলে মস্ত বড় মানুষ হয়েছে, আমেরিকায় এত বড় একটা কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে। তারপরও বলছো মানুষ করতে পারলাম না! কেন গো? দাদা তো আমাদের গর্ব গো।  -- বড় হয়েছে, বড় চাকরি পেয়েছে সব ঠিক আছে, কিন্তু ভালো পড়াশোনা করে বড় চাকরি পেয়েছে বলেই দেশ ছেড়ে চলে যাবে, একেবারে ওখানকার বাসিন্দা হয়ে যাবে, এটাতো আমি কোনোদিন ভাবি নি রে। ওখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসে এখানেও তো কিছু একটা করতে পারত-- সবাই যদি দেশের বাইরে চলে যাবে দেশের জন্য কে ভাববে বল দেখি? আমাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু আমি গেলাম না--  -- হ্যাঁ, তোমার তো শরীর খারাপ, যাবে কি করে? টিকিট ক্যানসেল করতে হলো তো--  -- না রে শরীর খারাপ আমি বানিয়েছি, ইচ্ছা করে বানিয়েছি।...

পরী বন্ধুর সাথে

পরী বন্ধুর সাথে মুনমুন মুখার্জ্জী ছোট্ট তৃষা আজ প্রথম নিজের কৌতুহল দমিয়ে রাখতে পারে নি, ওর খুব জানার ইচ্ছা ছাদ থেকে নিচেটা কেমন লাগে। মা বাবা দুজনেই চাকরি করেন, কারো সময় নেই ওকে নিয়ে ছাদে যাবার, ছুটির দিন ফাঁক পেলেই কোথাও ঘুরতে যায় সবাই মিলে, কিন্তু মনের ইচ্ছে পূরণ হয় না। ঠাকুমা বুড়ি হয়েছেন, তাঁকে বেশি বিরক্ত করতে বাবা বারণ করে দিয়েছেন। সারাদিন পড়া, গান, ছবি আঁকতে সময় চলে যায়। ভাত খেয়ে শুয়ে শুয়ে ঠাকুমার কাছে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যায়। ঠাকুমা বলেছেন ছাদের বাইরে অনেকগুলো ভুতের বাচ্চা থাকে, কেউ ঝুঁকলেই টেনে নেয়। কতরকমের ভুতের গল্প শুনেছে ঠাকুমার কাছে, তার মধ্যে যেমন ভালো ভুত আছে তেমনি শয়তান ভুতও আছে। তাদের গল্প শুনতে শুনতে গায়ে কাঁটা দেয়। ওর খুব জানার ইচ্ছা ওদের ছাদের পাশে কোন ভুতের বাসা। মাস্টার মশাই বলেছেন নিজের চোখে না দেখে কিছু বিশ্বাস করতে নেই, তাই আজ নিজের চোখে দেখতেই হবে।           আজ ঠাকুমার সাথে ঘুমাতে গিয়ে ঘুমের অভিনয় করে শুয়ে ছিল। তারপর যখন ঠাকুমা ঘুমিয়ে যান চুপিচুপি বিছানা ছেড়ে ছাদে ওঠে। ছাদের চারপাশে উঁ...

বিশ্বাস অবিশ্বাস

বিশ্বাস অবিশ্বাস মুনমুন মুখার্জ্জী  "মা আর হবে না, দেখো এবার থেকে তোমার কথাতেই সংসার চলবে; তুমি যা বলবে তাই আমরা সবাই করতে বাধ্য হব। শেষবারের মতন একবার তুমি সুযোগ দাও।"  অনেকক্ষণ ধরে রচনা দেবী ছেলের কথা শুনছিলেন, আর ধৈর্য ধরে থাকতে পারলেন না; বললেন, "অনেক হয়েছে বারবার আমি তোদের কথা বিশ্বাস করেছি, কিন্তু পরিণামে কিছু ফল হয়নি। তোর বাবা রেখে যাওয়া সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করেছিস। কিছু বলতে গেলেই বলিস আমার টাকা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু আমার তো চিকিৎসা বিমা করা আছে। আমার যা কিছু খরচ সেখান থেকেই তো উঠে আসে। তাহলে আমার রোগ-অসুখে কি করে সব শেষ হয়? যে টাকা ইনভেস্ট করা ছিল সেখান থেকেও তো প্রতিমাসে কিছু আসত সুদ বাবদ। এখন তো কিছুই পাই না। তুই আমার সঙ্গে জয়েন্ট হয়ে এখন আর আমার কোনো খেয়ালই রাখিস না। তাই আমি আদালতে তোর বিরুদ্ধে কেস করেছি, কারণ তোদের হাত তোলা হয়ে থাকতে আমার আর ভাল লাগছে না।  শরীরের তো ভরসা নেই। হতে পারে এক মাসের মধ্যে মারা যাব কিংবা হতে পারে আরো এগারো বছর বারো বছর; ঠিক নেই কতদিন বাঁচবো! আমার টাকা আমার কাছে থাকলে আমার সুবিধা। নিজেকে আবর্জনা মনে হবে না, আগাছা মনে হবে না। আমি...

অভাগীর চিঠি

অভাগীর চিঠি  মুনমুন মুখার্জ্জী  স্নেহের বাবুসোনা,                          জানি না এ নামে তুই নিজেকে চিনতে পারবি কিনা! তোর বাবা আর আমি ছাড়া কেউ তো এই নামে তোকে ডাকে নি কোনোদিন.. তিনি দুবছর হল অমৃতলোকে যাত্রা করেছেন, আর আমিও এখন তোকে ডাকার সুযোগ পাই না। তুই তো আমার কাছে আসিস-ই না। একই বাড়িতে থেকে তুই এত দূরে সরে কি করে থাকিস আমি ভাবতে পারি না। আমি বার বার বার তোকে ফোন করে ডেকে পাঠাতাম বলে তুই ফোনটাও নিয়ে নিয়েছিস। দরজা বাইরে থেকে লাগানো থাকে, চিৎকার করে তোকে ডাকলেও তুই শুনতে পাস না, নাকি শুনতে পেলেও উত্তর দিস না কে জানে?              মনে আছে যখন ভাল ছিলাম সে দিনের কথা? তোর ছোটবেলার কথা না হয় বাদ দিলাম, তোর বিয়ের পর তোর বউ তো ঘরের কাজ, রান্নাবান্না কিছুই জানত না। তার উপর চাকরি করা মেয়ে, তার ভাল লাগা মন্দ লাগা, তোর ভাল লাগা মন্দ লাগা, তোর বাবার ভাল লাগা মন্দ লাগা অনুযায়ী কাজ করতে করতে নিজের ভাল মন্দ নিয়ে চিন্তা করার সময় পাই নি। এমন কি নিজের শরীরের দিকে তাকাতে পারিনি। তোর বাবা তাও...

আসল পুজো

  আসল পুজো মুনমুন মুখার্জ্জী সান্তনু, আকাশ, নয়ন তিনজনে দুর্গাপূজার বিজয়া করতে প্রভাতের বাড়ি গিয়ে প্রভাতকে মনমরা দেখে খুব অবাক হয়ে যায়। নয়ন বলে- হঠাৎ কি ব্যাপার প্রভাত?  বাজার করেছি রান্না চাপাই চল। মাংসের ঝোল ভাত খাব। প্রভাত- ভালো লাগছে না। আকাশ- কেন কি হল। প্রভাত- আর বলিস না, আজ দুপুরে দোকান বন্ধ করতে যাব, সে সময় একটা বয়স্ক মানুষ এল নাতির জন্য জামা কিনতে। আমি শুধালাম, দশমী তো হয়ে গেল,  আজ বিসর্জন, এখন জামা কিনছেন? নাতি বেশ চটপট উত্তর দিল, আরে কাকু এইতো সবে প্যান্ডেল থেকে বেরোলাম, এ-কদিন তো দাদু ঢাক বাজাচ্ছিল আর আমি কাঁসরঘন্টা। বাবুরা পয়সা দিলো, তাই এলাম।  আমাদের পুজো বিসর্জনের বাজনা দিয়ে শুরু আর বিসর্জনের বাজনা দিয়েই শেষ। কথাটা শুনে মনটা খারাপ লাগলো। নয়ন- অথচ ওরা না বাজালে আমাদের পুজো সম্পূর্ণ হয়না। এবারে পাড়ার কালীপুজোয় আমরা ঢাকিদের জন্য একটা করে জামা কিনবো। তোরা কি বলিস? আকাশ- ঠিক আছে তাহলে এই কথাটা একদিন ক্লাবে মিটিং ডেকে সবার সামনে কথাটা তুলব। পুজোর খরচা থেকে অল্প আমরা নাহয় ওদের জন্য কিছু করলাম। প্রভাত- আমি আর একটা কথা বলবো, কিছু মনে...