পোস্টগুলি

অণু কবিতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

চাওয়া পাওয়া

চাওয়া পাওয়া মুনমুন মুখার্জ্জী আকাশ কুসুম চাই না কিছুই, ছোট ছোট চাওয়া পাওয়া-- ছোট ছোট প্রাপ্তির মাঝেই বিশাল কিছু খুঁজে নেওয়া! গাড়ি বাড়ির পিছনে ছুটে সময় করি না নষ্ট অত-- ছোট খাটো ঘটনাতেই তাইতো সুখ খুঁজে পাই কত। নাওয়া খাওয়া নেই, টাকার পিছনে ছুটছে অনেকে বেশ-- অবসর এলে ডাক্তারের নির্দেশে খাওয়াটাই হয় শেষ। তাই বেশ আছি নিজের মত, করি না চিন্তা ভাবনা অল্পতেই সুখ খুঁজে পেলে থাকে না কোনো যাতনা।

নাবুঝ

নাবুঝ মুনমুন মুখার্জ্জী ফাগুনে রঙীন হয়ে ভাসে প্রিয় মুখ, প্রিয় মুখ দেখে ভুলে যাই যত দুখ-- দুখের রাজ্যে উঁকি দেয় পুরোনো সুখ; সুখের ঠিকানায় খোঁজ পাই প্রিয়ের চোখ! চোখের গভীরে হারিয়ে যায় মন অবুঝ, অবুঝ মনকে নাটক বলে অনেক নাবুঝ।

শেষ সময়

শেষ সময় মুনমুন মুখার্জ্জী ছোট করতে চাইলেই কি কাউকে ছোট করা যায়?  দুদিন পর তো যেতেই হবে সেই শেষ ঠিকানায়। থাকত যখন সবার মাঝে, কথা বলতো না কেউ মনের ঠিকানা বদল করতে তোলে নিন্দার ঢেউ। সইতে সইতে পিঠ ঠেকে যায় সহ্য হয় না আর, সম্পর্কের রকম ফেরে সব লাগে যেন বেকার। কলঙ্ক তো চোখের কাজল, নিন্দা করে নিন্দুকে, 'নিন্দুকের' সমাধি হবে, 'ভালো' থাকবে সিন্দুকে।

না বলা কথা

না বলা কথা মুনমুন মুখার্জ্জী আজও বলা হয়নি সে কথা-- যে কথা চেয়েছিলে তুমি শুনতে! আজও তো ভাবা হয়নি সেভাবে-- যেভাবে তুমি বলেছিলে ভাবতে! আমার মনে আছো ঠিক সেভাবেই তুমি কি পেরেছ আমাকে ভুলতে?

নবীন পাতা

নবীন পাতা মুনমুন মুখার্জ্জী ছোট্ট ছোট্ট নবীন পাতা আনন্দেতে দোলায় মাথা। আকাশে তাকিয়ে থাকে কালবৈশাখী ঝড়কে ডাকে। কলঙ্কমুক্ত জগৎ গড়ে সবুজায়নে দেবে মুড়ে। নবীনতর মুক্ত মনে ধন্য হবে শিশিরস্নানে।

আগল

আগল মুনমুন মুখার্জ্জী যতই ভাবো আগলে রাখবে, আগলে রাখা নয়তো সোজা; শরীরটাকে আগলে রাখো, মন কি চায় যায়না বোঝা। দাও খুলে দাও আগল তোমার, ভালোবাসা দাও ভরপুর; মনের মানুষ থাকবে পাশে, যাবে না তোমার থেকে দূর। আগল দিয়ে রাখতে চাইলেই, শিকল কাটতে চাইবে সে; খাঁচার পাখি উড়তে শিখলে আফশোষ করবে তুমিই শেষে।

শীতের কোলকাতা

ছবি
শীতের কোলকাতা মুনমুন মুখার্জ্জী শীতের সকালে কোলকাতা তুমি বড্ড বেশি অলস, বেলা বাড়তেই দৌড় শুরু করো, জাদুতে ভরা কলস। রাস্তা-ঘাটে, মেট্রো-ট্রেনে জনসমুদ্রের জোয়ার, রাত্রি অবধি ছুটে চলে সবাই দূর্জয় দূর্বার। বারোমাস চলে সাংস্কৃতি চর্চা, শীতে বাড়ে বহুগুণ, সুভাষ মেলা, বইমেলা বা অ্যালেন পার্কের ধুম। এর মাঝে যদি ভোটপুজো আসে রূপ দেখে কে তোমার, নানা দল নানা মধুর বচনে সাজায় যে বার বার।

যাবার আগে

যাবার আগে মুনমুন মুখার্জ্জী সময়ের হাত ধরে সবাইকে তো একদিন চলে যেতেই হয়, তবু চলে যাবার আগে সবাই নিজস্ব ছাপ রাখতে চায়; কবি লেখেন নতুন ছন্দে, সুরকারের থাকে সুরের জাদু, বিজ্ঞানী থেকে ডাক্তার, রাষ্ট্রনেতা সবার রয়েছে নিজস্ব মধু। হয়তো কেউ দুদিনের চটপটি, কারো সৃষ্টি যুগান্তকারী, ঋতু পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে প্রকৃতিও হয়ে ওঠে অত্যাচারী।

মাঘের বাঘ

  মাঘের বাঘ মুনমুন মুখার্জ্জী শীত পড়েছে কনকনিয়ে রয়েছি জড়োসড়ো, সাত সকালে ঘুম ভাঙ্গে না লেপ মুড়ি দিই আরো। মাঘের শীত বাঘের গায়ে লাগলো বুঝি এবার,  জলটা দেখেই ঠান্ডা লাগে, স্নান কে করে আবার? গালটা ফাটে, হাত-পা ফাটে, ফেটে ঠোঁট হয় লাল, রোদে বসে ভাবছি আমি কবে আসবে বসন্তকাল!!

আত্মসম্মান

আত্মসম্মান মুনমুন মুখার্জ্জী আসছে বছর আবার হবে বলছে ঢাকির ঢাক, এবার না হয় সাবধানেতে সবাই ঘরে থাক। মা তো আসে বছর বছর, আনন্দ হয় অপার, তাইতো অনেকে যায়নি বাইরে তাল মিলিয়ে সবার। তবুও পুজো আনল হাসি কিছু মানুষের মুখে, দান নয়, তারা সম্মানের খোঁজে সারা বছর থাকে।

লাশের উপর নির্মাণ

  লাশের উপর নির্মাণ মুনমুন মুখার্জ্জী ক্ষমতার লড়াই চলছে দেখি চারিদিকে, নিজেকে মহান করতেই অনর্থক লড়াই; ভুল বোঝাবুঝির বলি সাধারণ মানুষ-- তাদের কথা ভেবেছে কবেইবা কারাই! ইমারত গড়েছে লাশে দাঁড়িয়ে তারাই।

ভালোবাসি

ছবি
ভালোবাসি মুনমুন মুখার্জ্জী দিনের পর দিন কাটিয়েছি নিদারুণ অবহেলায়; হয়তোবা কিছু ত্রুটি ছিল আমার ভালোবাসায়। হয়তো ছিল তা একপেশে, বোঝোনি তুমি আমায়; হয়তো আমি তোমাকে বুঝিনি, ছিলাম কল্পনায়। হয়তো সবই ঠিক ছিল, হয়েছি সময়ের শিকার; এই মন তবু ভালোবেসে যাবে তোমাকেই বারেবার।

উলের আসর

ছবি
উলের আসর মুনমুন মুখার্জ্জী শীত জমুক উলের কাঁটায়, চলো না আবার স্মৃতিকে ফেরায়। চলো না আবার কাজের শেষে রোজ দুপুরে আড্ডা জমাই। এখন সবাই একলা ঘরে, কেউ ফোনে কেউ টিভিতে কাটায়, চলো আবার শীত দুপুরে রোদের আমেজ উপভোগে যাই। উল বোনার ছলে জমে উঠত তখন যে আসরটা ভাই, চলো না আবার মা-মাসির মত ছাদে-মাঠে আসর জমাই।

সময়ের চাকা

ছবি
সময়ের চাকা মুনমুন মুখার্জ্জী সময়ের হাতে সবাই চাকর, ভেদাভেদ নেই তার-- আঙুল ফুলে যতই ফাঁপি হবে সব বেকার। সময়ের হাত ধরে এগিয়ে চলে যে মানে না হার; একদিন তার ঠিক জয় হয়, পায় কত উপহার। সময়ের চাকায় হতে দেখেছি কত বিপ্লব, বিক্ষোভ! ইতিহাস দোষ গুণের বিচার করে, দেখেনা তো বৈভব।

হাজার দীপের আলো

 হাজার দীপের আলো মুনমুন মুখার্জ্জী উৎসবের দিন শেষ হলেও থাকুক খুশির রেশ, আগামী দিনে থাকব ভালো, আনন্দে হাসব বেশ। অপমানের জ্বালা থাকনা মনের গভীর কোণে, না পাওয়ার অভাব যেন আসে না আর মনে। হাত বাড়িয়ে ধরব তাদের যারা বাসবে ভালো, সবার জীবন জুড়ে থাকুক হাজার দীপের আলো।

অতিষ্ঠ জীবন

  অতিষ্ঠ জীবন মুনমুন মুখার্জ্জী দুলছি সবাই দোলাচলে-- কি যে হবে কে জানে, ভয়ে অতিষ্ঠ সবার জীবন আজকের এই সন্ধিক্ষণে। ঠিক ভুলের সব ক্ষমতা সবার যেন লোপ পেয়েছে, উদাসী এক মরণ নেশায় সবাই দেখো আজ মেতেছে।

নিশ্চিন্তের ঘুম

  নিশ্চিন্তের ঘুম মুনমুন মুখার্জ্জী ছোট্ট সোনা ঘুমিয়ে আছে নিশ্চিন্তে তার মায়ের বুকে, দোহাই তোদের চুপ করে থাক, ঘুমাক সে পরম সুখে। চাঁদের হাসি ঝরছে দেখ খুকু মনার শান্ত মুখে, হাজার কাব্য লিখতে পারি সুন্দর ওই হাসি দেখে। চুপটি করে আয়রে ছুটে দেখবি যদি যা রে দেখে, কেমন করে ঘুমায় সোনা মায়ের স্নেহ-সুধা মেখে।