পোস্টগুলি

অণুগল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আর্তনাদ

আর্তনাদ মুনমুন মুখার্জ্জী পায়েল জানলায় না দাঁড়িয়ে পালাবি চল, কাগজপত্র গুছিয়ে নিয়েছি-- উফ্ মা, ভিডিও করছি, দেখবে এসো, ভয়ঙ্কর কালো ধোঁয়া যেন সবকিছু গিলে নিতে চাইছে। নিজে বাঁচলে আবার ভিডিও করবি-- হঠাৎ বাড়ীটা কেঁপে উঠল, ইয়াশের তান্ডব আর সমুদ্রের হুঙ্কারের সাথে শোনা গেল মানুষের আর্তনাদ।

পার্সোনাল

পার্সোনাল  মুনমুন মুখার্জ্জী  -কি ব্যাপার বিধু, তোমার ছেলে এখানে কি করছে?  -দিদিমণি, আমি ঘাস কাটছি, ও ঝুড়িতে রাখছে।  -সে তো দেখতে পাচ্ছি, ওকে ঘরে রেখে আসতে পারতে-- -কাজ শিখছে দিদি, খেটে খেতে হবে তো -- -সারা জীবন আছে তো। ছেলেবেলার সময় কেন?  -ছোট থেকেই কাজ না শিখলে বড় হয়ে করতে চাইবে না যে-- -এই তো স্কুল থেকে এল, আবার বিকালে টিউশন যাবে, রাতে ওর মা পড়ায়, ও খেলবে কখন?  -সে তো বাবুদের ছেলেরাও অনেক কিছু শেখে, খেলতে সময় পায় না-- -তবু তাদের সে সবের মধ্যে একটা আনন্দ থাকে। মাঝে মাঝে বেড়াতে যায়, তাতেও পুষিয়ে যায়-- -ঠিক বলেছেন দিদি, আমরা ওসব পারি না। কিন্তু ও কেমন খেলতে খেলতে কাজ করছে দেখছেন-- দিদি, একটা কথা বলি কিছু মনে করবেন না, আপনার ছেলে কাল দাদা মানে আপনার স্বামীর সাথে ঝগড়া করছিল, আমি শুনেছি। ওর "পার্সোনাল" ব্যাপারে আপনাদের নাকি নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই। কিন্তু আমি তো দেখেছি আপনারা কত পরিশ্রম করে ওকে মানুষ করেছেন-- বলা যায় না আপনাদের যখন বয়স হবে, দুজনের মধ্যে একজন থাকবেন, ওই ছেলেই কিন্তু তাঁকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে। যার নিয়ে কিছু বলার অধিকার আপনাদের নেই, তার কাছে ...

ভোর চারটে

ভোর চারটে মুনমুন মুখার্জ্জী হটাৎ ভোরে ঘুম ভেঙে যায় রানুর, বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে থাকে। কিছুতেই আর ঘুম আসে না। এমনিতে সকাল সাতটার আগে ওঠে না, তাই ছটফট করতে থাকে। বালিশের তলা থেকে মোবাইল বের করে দেখে মোটে চারটে, এখনো অনেকটা সময় ঘুমানো যাবে। ভাবে ওয়াস-রুম থেকে ঘুরে এলে যদি ঘুম আসে... পুরোনো সেকেলের বাড়ী, ঘর, বারান্দা, উঠান তারপর ওয়াস-রুম। যেহেতু উঠানে ছাদ নেই তাই বারান্দায় লোহার গ্রিলে তালা দেবার ব্যবস্থা আছে। সাধারনত তালা খোলা লাগানোর ঝামেলা থাকে বলে রানু রাতে উঠে না -- কিন্তু আজ যেন ঐ বিছানায় মন টিকছে না। বাইরের দিকে মন টানছে। উঠে পরে। দরজার ফাঁক থেকে আলো দেখে ধরফর করে বিছানা থেকে নামে। ভাবে, তবে কি রাতে লাইট অফ করতে ভুলে গেছে। ইসস্ বেকার সারা রাত... ভাবতে ভাবতে দরজা খোলে। নাহ লাইট তো অফ আছে দেখে নিশ্চিন্ত হয়। কিন্তু ২৩ বছর বিবাহিত জীবনে ভোর বেলায় সারা বারান্দা জুড়ে এত জ্যোৎস্না কখনো খেয়াল করে নি। চাঁদ দেখে মোহিত হয়ে পড়ে। যেন চাঁদ ওর জন্যই আজ ঘরে এসেছে। কি স্নিগ্ধ, কি অপূর্ব... সারা গায়ে চাঁদের আদর মেখে রানুর মন শান্ত হয়। চাঁদ যেন চাঁদ নয়, খুব কাছের আপন জন। তাকে দেখার জন্য, তার পরশ ...