শেষ বার্তা


শেষ বার্তা
মুনমুন মুখার্জ্জী

বৌমা, বৌমা, শ্বশুরের ডাক শুনে উঠে পড়ে হৈমন্তী।

"কি হয়েছে বাবা?"

"সেরকম কিছু না মা, আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিতে এসেছি।" 

"কেন? এমন কি হলো?" 

"দীর্ঘ পনেরো বছর তুমি আমার যে সেবা করেছো তার জন্য আমি ধন্য।"

" আমি তো শুধু কর্তব্য পালন করেছি।"

" না মা, কর্তব্য বলে তুমি নিজেকে ছোট করো না। আমি প্রতিটি মুহূর্ত তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। ক্ষণিকের ভুলে আমি যে ভুল করতে যাচ্ছিলাম তাতে তুমি যদি তখন বুদ্ধি করে সরে না যেতে তাহলে হয়তো সাংঘাতিক কিছু হয়ে যেত। তারপর থেকে তুমি কথা বলা বন্ধ করে দিলেও কর্তব্যের কোনো গাফিলতি করোনি। প্রতিটি মুহূর্ত আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি আর লজ্জা পেয়েছি। তুমি যে ঘর ছেড়ে চলে যাও নি, ছেলেকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নাও নি, এর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ দিলেও আমার পাপ কম হবে না।"

" হ্যাঁ সেদিন হয়তো সাংঘাতিক কিছু অঘটন ঘটতে পারত, তবে তারপর থেকে আপনার চোখে-মুখে আমি অনুশোচনা দেখেছি, তাই কোনো কঠিন পদক্ষেপ নিইনি। ক্ষণিকের ভুল অনেকের হতেই পারে, তা বলে মানুষটাকে খারাপ বলা ঠিক নয়। তাই ছিলাম এক ছাদের তলাতেই।"

" সে যাই হোক, আজ তুমি হসপিটালে যখন প্রসাদী ফুল আমার মাথায় ঠেকালে এবং নিজের হাতে প্রসাদ খাওয়ালে আমার সব পাপ ধুয়ে গেল। তুমি ভালো থেকো, তোমাকে আর কষ্ট দেব না।"

" মানে?" 

হঠাৎ ফোনের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় হৈমন্তীর। রাত বারোটা। ওপার থেকে হৈমন্তীর স্বামীর গলা ভেসে আসে--

" হৈমু, বাবা কিছুক্ষণ আগে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।"

 হৈমন্তী বুঝল, শেষ সময়ে গলার স্বর চলে যাওয়ায় শ্বশুড়মশাই যে কথা বলতে পারেননি শরীর ছেড়ে সে কথাই স্বপ্নে বলে দিলেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৫) মুহূর্তরাও গল্প শোনায়

৪) মুহূর্তরাও গল্প শোনায়

৬) মুহূর্তরাও গল্প শোনায়