আসল পুজো
আসল পুজো
মুনমুন মুখার্জ্জী
সান্তনু, আকাশ, নয়ন তিনজনে দুর্গাপূজার বিজয়া করতে প্রভাতের বাড়ি গিয়ে প্রভাতকে মনমরা দেখে খুব অবাক হয়ে যায়।
নয়ন বলে- হঠাৎ কি ব্যাপার প্রভাত? বাজার করেছি রান্না চাপাই চল। মাংসের ঝোল ভাত খাব।
প্রভাত- ভালো লাগছে না।
আকাশ- কেন কি হল।
প্রভাত- আর বলিস না, আজ দুপুরে দোকান বন্ধ করতে যাব, সে সময় একটা বয়স্ক মানুষ এল নাতির জন্য জামা কিনতে। আমি শুধালাম, দশমী তো হয়ে গেল, আজ বিসর্জন, এখন জামা কিনছেন? নাতি বেশ চটপট উত্তর দিল, আরে কাকু এইতো সবে প্যান্ডেল থেকে বেরোলাম, এ-কদিন তো দাদু ঢাক বাজাচ্ছিল আর আমি কাঁসরঘন্টা। বাবুরা পয়সা দিলো, তাই এলাম। আমাদের পুজো বিসর্জনের বাজনা দিয়ে শুরু আর বিসর্জনের বাজনা দিয়েই শেষ।
কথাটা শুনে মনটা খারাপ লাগলো।
নয়ন- অথচ ওরা না বাজালে আমাদের পুজো সম্পূর্ণ হয়না। এবারে পাড়ার কালীপুজোয় আমরা ঢাকিদের জন্য একটা করে জামা কিনবো। তোরা কি বলিস?
আকাশ- ঠিক আছে তাহলে এই কথাটা একদিন ক্লাবে মিটিং ডেকে সবার সামনে কথাটা তুলব। পুজোর খরচা থেকে অল্প আমরা নাহয় ওদের জন্য কিছু করলাম।
প্রভাত- আমি আর একটা কথা বলবো, কিছু মনে করবি নাতো?
আকাশ- আবার কি?
প্রভাত- ছেলেটাকে আর ওর দাদুকে একটা করে নতুন জামা দিয়েছি আর ওদের আজ দুপুরে খেতে বলেছি।
সান্তনু- আমরা নাহয় দরিদ্র ভোজনের সাথে দক্ষিণা দিয়েও পুজো সমাপন করব---
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন