ভক্তের লেখা খোলা চিঠি ভগবানকে

ভক্তের খোলা চিঠি ভগবানকে
মুনমুন মুখার্জ্জী

একবার এক মহিলা মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের হাতে একটা ভাঁজ করা কাগজ দিল। মহিলার হাবভাব দেখে, পোশাক দেখে পাগলি বলেই মনে হয়। ।  তারপর মহিলা হাত জোর করে ভগবানের সামনে বসে পড়ল। পুরোহিত মশাই এমন কিছু ঘটনা আশা করেন নি। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাগজের ভাঁজ খুলে দেখলেন ওটা আসলে একটা চিঠি।

হে পরমেশ্বর
           শুনেছি তোমার অসীম শক্তি। তাই ছোট্ট থেকে বড়দের সাথে বারে বারে গেছি তোমার অনেক মন্দিরে, হাত জোড় করে মাথা ঠেকিয়েছি তোমার চৌকাঠে। তোমার বিভিন্ন রূপে মুগ্ধ হয়েছি আমি। মনে হয়েছে তোমার দৃষ্টি যেন আমার অন্তরের সকল টানা পোড়েন জেনে নেয়। সবাই থালা ভর্তি করে কত কিছু নিয়ে যায় তোমাকে দিতে, ঘরেও সাজায় রেকাবি তোমায় অর্ঘ্য দেবে বলে। আমি অবশ্যই কোনো দিন তা করি না। তুমি তো ভালো করেই জানো আমি কাউকে তেল মালিশ করি না। আর তোমারই দেওয়া এ জগতের কোন জিনিস আমি তোমাকে দান করবো-- আমি ভেবে পাই না। তাই শুধু ভক্তি ভরে প্রণাম করি, আরতি দেখি, মন্ত্র পাঠ শুনি। মন্ত্র বুঝি না কিছুই, তবু মনটা কেমন যেন টানে। কত জনকে দেখি ডালা ভরে নানারকম জিনিস সাজিয়ে নিয়ে যায় তোমার জন্য, কিন্তু পূজা দেখে না। নিজেদের মধ্যে গল্প করে। অঞ্জলি দেওয়ার পর মাথা ঠোকে আর কতকিছু চায়। আমি চাইনি কখনো। জানি তুমি অন্যায় করতেই পারো না। আমার যখন যা লাগবে তুমি ঠিক ব্যবস্থা করে দেবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত চেয়ে লাভ নেই তো। তাতে মাথায় নানা চিন্তা আসে।
           আচ্ছা আমি তোমার কাছে কোনোদিন কিছু চাই নি, আজ একটা বর চাইবো দেবে? তবে আগে থেকেই বলে দিচ্ছি কিন্তু ঘুষ দিতে পারবো না। চাইছি তোমার এ দুনিয়ার জন্যই -- চারিদিকে দেখো সমাজে কত অশান্তি, সমাজ জ্বলছে, দেশ জ্বলছে। পৃথিবীর সব জায়গায় এক অবস্থা। সবাই অতৃপ্ত কামনা বাসনায় জ্বলছে। শুধু নিজের কথা ভাবে আর অন্যের জিনিস ছিনিয়ে নিতে চায়। লোককে বিপদে ফেলতে, অপদস্থ করতে আনন্দ পায়। 
            তুমি আমাকে বেশী না দু’তিন দিনের জন্য একটা বর দাও, আমি যেন একটা ঐশ্বরিক শক্তির অধিকারী হতে পারি। আমার নিঃশ্বাস যেখানে পরবে সেখানের বাতাস বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। সেখানে থাকা সমস্ত মানুষও ওই শক্তির প্রভাবে সারা জীবনের জন্য পাপমুক্ত হতে পারে। তাদের নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সাথে মিশে যাবে তোমার ওই অদ্ভুত শক্তি। তারা যেখানে যেখানে যাবে সে জায়গা হয়ে উঠবে পবিত্র। কারো মনে কোনো অভাব অভিযোগ থাকবে না। থাকবে না কোনো রোগ অসুখ। আস্তে আস্তে তোমার শক্তি ছড়িয়ে যাবে সারা পৃথিবী। কত সুন্দর হয়ে উঠবে এই পৃথিবীর সমস্ত মানুষের মন। তাদের মানবিক গুনের বিকাশ ঘটবে। সবাই সবার পাশে থাকবে। দাও না আমাকে এমন একটা শক্তি। আমি তোমার মন্দিরের সামনে থেকে শুরু করবো সেদিনের অভিযান। যাতে তোমাকে ঘুষ দেওয়ার বদলে সবার সাহায্যের হাত এগিয়ে যায় মন্দিরের সামনে বসে থাকা মানুষের দিকে। একটি বার তোমার ক্ষমতার একটু ভিক্ষে চাইছি হে পরমেশ্বর, আমাকে আশীর্বাদ করে ধন্য কর।
                      আমি যে তোমার পাগলী ভক্ত... 

পুরোহিত মশাই মহিলার মাথায় হাত রেখে চোখ বুঁজে কিছু প্রার্থনা করলেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৫) মুহূর্তরাও গল্প শোনায়

৪) মুহূর্তরাও গল্প শোনায়

৬) মুহূর্তরাও গল্প শোনায়