ভোর চারটে
ভোর চারটে
মুনমুন মুখার্জ্জী
হটাৎ ভোরে ঘুম ভেঙে যায় রানুর, বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে থাকে। কিছুতেই আর ঘুম আসে না। এমনিতে সকাল সাতটার আগে ওঠে না, তাই ছটফট করতে থাকে। বালিশের তলা থেকে মোবাইল বের করে দেখে মোটে চারটে, এখনো অনেকটা সময় ঘুমানো যাবে। ভাবে ওয়াস-রুম থেকে ঘুরে এলে যদি ঘুম আসে... পুরোনো সেকেলের বাড়ী, ঘর, বারান্দা, উঠান তারপর ওয়াস-রুম। যেহেতু উঠানে ছাদ নেই তাই বারান্দায় লোহার গ্রিলে তালা দেবার ব্যবস্থা আছে। সাধারনত তালা খোলা লাগানোর ঝামেলা থাকে বলে রানু রাতে উঠে না -- কিন্তু আজ যেন ঐ বিছানায় মন টিকছে না। বাইরের দিকে মন টানছে। উঠে পরে। দরজার ফাঁক থেকে আলো দেখে ধরফর করে বিছানা থেকে নামে। ভাবে, তবে কি রাতে লাইট অফ করতে ভুলে গেছে। ইসস্ বেকার সারা রাত... ভাবতে ভাবতে দরজা খোলে। নাহ লাইট তো অফ আছে দেখে নিশ্চিন্ত হয়। কিন্তু ২৩ বছর বিবাহিত জীবনে ভোর বেলায় সারা বারান্দা জুড়ে এত জ্যোৎস্না কখনো খেয়াল করে নি। চাঁদ দেখে মোহিত হয়ে পড়ে। যেন চাঁদ ওর জন্যই আজ ঘরে এসেছে। কি স্নিগ্ধ, কি অপূর্ব... সারা গায়ে চাঁদের আদর মেখে রানুর মন শান্ত হয়। চাঁদ যেন চাঁদ নয়, খুব কাছের আপন জন। তাকে দেখার জন্য, তার পরশ দেবার জন্যই ঘুম থেকে তুলে টেনে বাইরে নিয়ে এল। অনেকক্ষণ আপন মনে বসে থাকার পর ভেতর থেকে ডাক আসে- 'কই গো কোথায় গেলে?' রানুর ঘোর কাটে। সে ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকে যায়। তার মনটা কেমন উদাস হয়ে যায়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন