পার্সোনাল
পার্সোনাল
মুনমুন মুখার্জ্জী
-কি ব্যাপার বিধু, তোমার ছেলে এখানে কি করছে?
-দিদিমণি, আমি ঘাস কাটছি, ও ঝুড়িতে রাখছে।
-সে তো দেখতে পাচ্ছি, ওকে ঘরে রেখে আসতে পারতে--
-কাজ শিখছে দিদি, খেটে খেতে হবে তো --
-সারা জীবন আছে তো। ছেলেবেলার সময় কেন?
-ছোট থেকেই কাজ না শিখলে বড় হয়ে করতে চাইবে না যে--
-এই তো স্কুল থেকে এল, আবার বিকালে টিউশন যাবে, রাতে ওর মা পড়ায়, ও খেলবে কখন?
-সে তো বাবুদের ছেলেরাও অনেক কিছু শেখে, খেলতে সময় পায় না--
-তবু তাদের সে সবের মধ্যে একটা আনন্দ থাকে। মাঝে মাঝে বেড়াতে যায়, তাতেও পুষিয়ে যায়--
-ঠিক বলেছেন দিদি, আমরা ওসব পারি না। কিন্তু ও কেমন খেলতে খেলতে কাজ করছে দেখছেন-- দিদি, একটা কথা বলি কিছু মনে করবেন না, আপনার ছেলে কাল দাদা মানে আপনার স্বামীর সাথে ঝগড়া করছিল, আমি শুনেছি। ওর "পার্সোনাল" ব্যাপারে আপনাদের নাকি নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই। কিন্তু আমি তো দেখেছি আপনারা কত পরিশ্রম করে ওকে মানুষ করেছেন-- বলা যায় না আপনাদের যখন বয়স হবে, দুজনের মধ্যে একজন থাকবেন, ওই ছেলেই কিন্তু তাঁকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে। যার নিয়ে কিছু বলার অধিকার আপনাদের নেই, তার কাছে আপনারা গুরুত্বহীন। আপনাদের তো কোনো "পার্সোনাল" জীবন ছিল না, এখনও নেই। আপনারা শুধু করেই গেলেন। আমাদের মত ঘরে শুনেছেন কেউ মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসে? ছেলে মেয়েকে বেশি লাই দিতে নেই গো দিদিমণি...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন